;

মুকুন্দ দাসের কালীবাড়ি, বরিশাল

মুকুন্দ দাস চারণ কবি হিসেবেই সর্বাধিক পরিচিত। স্বদেশী ও অসহযোগী আন্দোলনের সময় বিপ্লবী অনেক গান, নাটক রচনা করে বিপ্লবীর দ্রোহকে আরো বেগবান করতে ভূমিকা রাখেন।

‘ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে,
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।।

কিংবা

‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসে,
হাসি হাসি পরব ফাঁসি, দেখবে জগতবাসী।‘

এমন সব অমর গান বাঁধাই করে গেছেন চারণ কবি মুকুন্দ দাস। অত্যাচার অনাচার বিরোধী তাঁর এমন সব গণসংগীত আজও সমানভাবে বিপ্লবে, দ্রোহের ভাষা হিসেবে মানুষকে আন্দোলিত করে যায়। ধীরে ধীরে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ভারতবর্ষ জুড়ে। পড়ালেখা ছেড়ে গানের দলের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন অল্প বয়সেই। তারপর নানা উত্থানপতন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত হয়ে পড়া। পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন গান, কবিতা এবং নাটক রচনা।

মুকুন্দ দাসের কালীবাড়ি, বরিশাল

মুকুন্দ দাসের পূর্বপুরুষরা বিক্রমপুরের হলেও তিনি শৈশব থেকেই বেড়ে ওঠেন বরিশালে। চারণ অনুষ্ঠান হতে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে তিনি বরিশালের কাশিপুরে কালীমন্দিরের জন্য জায়গা কেনেন। যা এখন বরিশালে চারণকবি মুকুন্দ দাসের কালীবাড়ি নামে পরিচিত। এখানে এখনো নিয়মিত পূজা আর্চনা হয়ে থাকে। এটি বরিশাল নগরীতে ঢোকার মুখে নথুলাবাদ বাস টার্মিনাল -সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত। এখানে মন্দিরের পাশাপাশি রয়েছে ছাত্রাবাস, লাইব্রেরি, দাতব্য চিকিৎসালয়। কালী মন্দিরটি স্থাপন করা হয় ১৯১৬ সালে। ১৯৭৬ সালে প্রথম সংস্কারের পর ২০০৯ সালে এটি দ্বিতীয় বারের মতো সংস্কার করা হয়। মুকুন্দ দাসের কেনা ৮৭ শতাংশের এই জায়গাটির মাত্র ১৯ শতাংশ মাত্র টিকে আছে এখন।

ছবি – ইন্টারনেট

তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন – মোঃ সাখাওয়াত হোসেন

Facebook Comments
মুকুন্দ দাসের কালীবাড়ি, বরিশাল: নানা উত্থানপতনের সাক্ষী