;

মিলনছড়ি হিলসাইড রিসোর্ট

যান্ত্রিক জীবনের কংক্রিটের মিছিল থেকে বেরিয়ে খোলা প্রাণে নিশ্বাস নিতে আমাদের মন হাঁপিয়ে উঠে। কিছুদিন প্রাকৃতিক পরিবেশে আনন্দময় অবকাশ যাপন এই যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ নিমিষেই উড়িয়ে দেয়। তাই নিরিবিলি ছুটি কাটানোর জন্য রিসোর্টের জুরি নেই । আর তা যদি হয় বান্দরবানের পাহাড়ি প্রকৃতির মাঝে কোনো রিসোর্ট তবে তো কথাই নেই। বান্দরবানের মিলনছড়ির অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে মিলনছড়ির হিলসাইড রিসোর্ট তেমনই এক অপার সৌন্দর্যের নাম। পাহাড়ি প্রকৃতির মাঝে কিছুটা প্রশান্তিময় সময় কাটাতে ছুটিতে চলে আসতে পারেন এই হিলসাইড রিসোর্টে।

মিলনছড়ি হিলসাইড রিসোর্ট

বান্দরবান শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে বান্দরবানের চিম্বুক সড়কের মিলনছড়ি এলাকায় পাহাড়ের বুকে অবস্থিত হিলসাইট রিসোর্ট। এই রিসোর্টটি বান্দরবান শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এই রিসোর্টটি দেশের প্রথম রিসোর্ট।উঁচু-নিচু অসমান বিশাল একটা চত্বর জুড়ে অবস্থান রিসোর্টটির। এই রিসোর্টটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যা দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন এটি কতটা প্রকৃতির সাথে একাত্ম। এখানে বাঁশ ও কাঠের সুনিপুণ ব্যবহার দেখতে পাবেন যা আপনাকে কিছু সময়ের জন্য হলেও কংক্রিটের শহরকে ভুলে থাকতে সাহায্য করবে।এই রিসোর্টের পুরোটা এলাকা ঘন সবুজ গাছ দিয়ে মোড়া। সবটাজুড়েই রয়েছে সবুজের ছোঁয়া। চারপাশটা নিবিড় জঙ্গল তাতে রয়েছে নানান গাছের সমাহার। আরো আছে বিশাল সব বাঁশঝাড়, থোকায় থোকায় ফুটে থাকা হরেক রঙের ফুলের শোভা ও মোহনীয় সুবাস। অসংখ্য রেইনট্রি পুরো রিসোর্টটিকে করেছে এক নিবিড় প্রশান্তির নীড়। এই রিসোর্ট থেকে দেখতে পারবেন পূর্ব প্রান্তে অবারিত সবুজের খেলা এবং সবুজ প্রকৃতির বুক ছিঁড়ে আঁকাবাঁকা বয়ে যাওয়া অপূর্ব সাঙ্গু নদী।

মিলনছড়ি হিলসাইড রিসোর্ট

এই রিসোর্টের কটেজগুলো প্রকৃতির ছোঁয়ায় গড়ে উঠা নান্দনিক সৌন্দর্যের এক নীড়। বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাড়ির আদলে এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি চমৎকার কটেজ। পাহাড়ের ঢালে নির্মাণ করা হয়েছে কটেজগুলো। কটেজগুলোর নামও বেশ সুন্দর। কোনটা পাখির নামে, কোনটা আদিবাসীদের নামে। যেমন ময়না, মারমা ইত্যাদি। কটেজগুলোর দেয়াল থেকে শুরু করে বারান্দার রেলিং পর্যন্ত সবই বাঁশের। মাথার ওপর পাতার ছাউনি। আর ঘরের সিলিং ও দেয়ালগুলো শীতলপাটি দিয়ে মোড়ানো।  বারান্দায় চেয়ার পাতা। আর পোকামাকড় ও মশা থেকে বাঁচার জন্য নেট দিয়ে দেয়া আছে। বারান্দা থেকে সামনে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। দূরের পাহাড়গুলো হাতছানি দিয়ে ডাকে। চেয়ারে গা এলিয়ে সামনের অবারিত সৌন্দর্যে ডুব দিয়ে হারিয়ে যেতে পারবেন নিমিষেই।

রিসোর্টটিতে রয়েছে ১০০ জন অতিথির একসঙ্গে বসে খাওয়ার মতো একটি রেস্টুরেন্ট। নাম রিগ্রী ক্ষ্যাং রেস্তোরাঁ। এখানে পাবেন জনপ্রিয় ব্যাম্বু চিকেন সহ বান্দরবানের নানা অথেনটিক আদিবাসী খাবার। রেস্টুরেন্টের বারান্দা থেকে বিশাল এলাকাজুড়ে নান্দনিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

মিলনছড়ি হিলসাইড রিসোর্ট

বর্তমানে এই রিসোর্টে দুটি ডরমিটরি কক্ষ, ১২টি নন-এসি কক্ষ এবং ১১টি এসি কক্ষ রয়েছে। সর্বমোট ৮০ জনের আবাসনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

কটেজভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে সাড়ে ৩৫০০ টাকার মধ্যে।

যোগাযোগ : ০১৭১১-৬৯৬৩৩১, ০১৭১১-৫২৪২৬৫, ০১৭৩০-০৪৫০৮৩।

ওয়েবসাইট : https://www.hillsideresort.info/

যেভাবে যাবেন:

দেশের যেকোনো জেলা থেকেই বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। ঢাকার কলাবাগান, সায়দাবাদ এবং ফকিরাপুল থেকে শ্যামলী, হানিফ, ইউনিক, এস আলম, ডলফিন ইত্যাদি পরিবহনের বাস বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এর যেকোনো একটি বাসে চড়ে সহজেই বান্দরবানের আসতে পারেন। এসব নন-এসি ও এসি বাসের জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৫৫০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান যেতে সময় লাগে ৮-১০ ঘণ্টা।

এছাড়া মহানগর, তূর্ণা কিংবা চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে প্রথমে চট্টগ্রামে তারপর সোজা বান্দরবানে চলে যেতে পারেন। চট্টগ্রাম শহরের বদ্দারহাট থেকেও পূবালী ও পূর্বানী পরিবহনের নন-এসি বাস ৩০ মিনিট পরপর বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

বান্দরবান শহরের বাস স্ট্যান্ড থেকে সিএনজিতে চড়ে মিলনছড়ি হিলসাইড রিসোর্টে আসতে পারেন। ভাড়া নিবে ১০০ টাকা।

ছবি – ইন্টারনেট

কন্ট্রিবিউটর – রুবাইদা আক্তার

Facebook Comments
মিলনছড়ি হিলসাইড রিসোর্ট, বান্দরবান