;

তাইওয়ানের জুতার আকৃতির চার্চ

উন্নত প্রযুক্তি আর অসাধারণ সুনিপুণ সব স্থাপত্য কাজের জন্য পুরো দুনিয়া জুড়ে প্রসিদ্ধ দেশটি হল তাইওয়ান। এখনকার স্থাপত্য গুলো যেমনি নান্দনিক তেমনি অপরাপর অপেক্ষা একটু আলাদা। এরই নমুনা পাওয়া যায় তাদের জুতোর আকারে তৈরি ৫৫ ফিট উঁচু বিশাল কাঁচের এক ভবন থেকে।

জুতার আকারেও যে শিল্প লুকিয়ে আছে আর তাও যে ফুটিয়ে তোলা যায় তাই যেন দেখিয়ে দিয়েছে তাইওয়ান। তবে জুতোর মতো দেখতে হলেও সেটি কোনো জুতোর দোকান বা শপিং মল কিন্তু নয়। সবচেয়ে অবাক করার ব্যাপারটি হল ভবনটি হল একটি চার্চ। প্রায় ৩২০টি বিশাল নীল রঙের কাঁচের প্যানেল দিয়ে তৈরি চার্চটি দেখতে হুবহু মেয়েদের একপাটি হাই হিল জুতোর মতো।তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিমের চাইয়ি প্রদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে চার্চটি।

মূলত বিয়ের কাজে ব্যবহৃত হয় বিধায় চার্চটিকে

সুখী, স্বর্গীয় এবং রোমান্টিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় ৩৩ ফিট চওড়া ভবনটি তৈরি করতে প্রায় ৭ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। মূলত নারীদের চার্চে যাওয়ার আকর্ষণ তৈরি করতেই নাকি ভবনটির বিশেষ এই আকৃতিতে তৈরি করা হয়েছে। তবে এই চার্চ নির্মাণের আরও একটি মূল উদ্দেশ্য হলো পর্যটক আকৃষ্ট করা। এবং সেই কাজটি এটি বেশ সফলতার সাথেই করে আসছে ২০১৬ সালে উদ্বোধনের পর থেকে। তবে চার্চটি কিন্তু কোন সাধারণ কাজের জন্য ব্যাবহার করা হয় না। জুতার আকারে তৈরি এই চার্চটি মূলত বিয়ের কাজের জন্যই ব্যাবহার করা হয়ে থাকে বলেই চার্চটি তৈরি করার পেছনে আরো একটি চিন্তা কাজ করেছে। চার্চটিকে এই কারণেই একটি সুখী, স্বর্গীয় এবং রোমান্টিক রূপ দেওয়া হয়েছে। কেননা প্রতিটি মেয়েই কল্পনা করে তার বিয়েটা হবে কল্পনার মতোই সুন্দর’। যদিও এই জায়গাটি নিয়ে একটি গল্প স্থানীয় ভাবে বেশ প্রচলিত রয়েছে।

তাইওয়ানের জুতার আকৃতির চার্চ

ডিজনির কার্টুন ছবি সিনডেরেলার কাহিনীতে যেমন দেখা যায় প্রধান চরিত্র সিনডেরেলা রাত বারোটার ঘণ্টা শুনে রাজপুত্রের কাছ থেকে দৌড়ে পালানোর সময় তার পা থেকে কাঁচের তৈরি এক পাটি জুতো খুলে পড়ে যায়। ভেতর থেকে দেখলে মনে হবে সিনডেরেলার ওই জুতোর আদলেই যেনো বানানো হয়েছে পুরো চার্চ ভবনটি। তাই অনেকেরই ধারণা, বিশেষ করে যেহেতু বিয়ের জন্যই ব্যবহৃত হবে চার্চটি। সুতরাং এর পেছনে একটাই উদ্দেশ্য হতে পারে। আর তা হলো অবিবাহিত নারীদের বোঝানো যে এখানে বিয়ে করে আত্মিক শান্তির কাঁচের জুতোটি খুঁজে নাও আর বাকি জীবনটা সুখে কাটাও। বাস্তবে চার্চের এই জুতো-আকৃতির পেছনে রয়েছে ভিন্ন আরও একটি লোকগাঁথা। ১৯৬০-এর দশকে ওই এলাকার এক হতদরিদ্র পরিবারের এক মেয়ে ওয়্যাং ব্ল্যাকফুট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার পর তার দুইটি পা কেটে ফেলে দেয়া হয়। পা হারানোর কারণে ওয়্যাং’র বিয়েটাও ভেঙে যায়। বাকিটা জীবন তিনি একা একটি চার্চেই কাটিয়ে দেন। সেই ওয়্যাং’র স্মৃতির সম্মানে জুতোর আদলে চার্চটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানা যায়। কারণটা যাই হোক জুতার আদলে তৈরি স্থাপনাও যে মানুষকে বিমোহিত করতে পারে এটি তারই এক অনন্য নিদর্শন।

কন্ট্রিবিউটর – মীর মাইনুল ইসলাম

Facebook Comments
তাইওয়ানের জুতার আকৃতির চার্চ