;

বাংলাদেশের যে কয়েকটি স্থাপত্য সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে তার মধ্যে প্রথম দিকেই আছে ষাট গম্বুজ মসজিদ। হযরত খানজাহান (রঃ) কর্তৃক নির্মিত অপূর্ব কারুকার্য খচিত পাঁচ শতাব্দীরও অধিক কালের পুরাতন বিশালায়তন এ মসজিদটি তাঁর দরগাহ হতে প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।
বাগেরহাট জেলায় ঠাকুর দিঘি নামে পরিচিত একটি মিঠা পানির পুকুরের পাশে এই মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল। এটাকে বাংলাদেশের প্রাচীনতম মসজিদের একটা বলে গণ্য করা হয়। ইতিহাসের পাতায় একে বর্ণনা করা হয়েছে “ঐতিহাসিক মসজিদ যা মুসলিম বাংলার স্বর্ণযুগের প্রতিনিধিত্ব করে”।


স্থাপত্য কৌশলে ও লাল পোড়া মাটির উপর লতাপাতার অলংকরণে মধ্য যুগীয় স্থাপত্য শিল্পে ষাটগম্বুজ মসজিদ এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। যদিও এটি ষাটগম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে চতুস্কোনের বুরুজের উপর চারটি গম্বুজসহ এতে মোট ৭৪টি গম্বজ আছে এবং মধ্যের সারির বাংলা চালের অনুরূপ ৭টি চৌচালা গম্বুজসহ এতে মোট ৮১টি গম্বুজ আছে।

বিশেষভাবে লক্ষনীয় যে, এর প্রার্থনা কক্ষের চৌচালা ছাদ ও গম্বুজগুলি ইট ও পাথরের ষাটটি খাম্বা দ্বারা সমর্থিত খিলানের উপর নির্মিত। জনশ্রুতি আছে যে, হযরত খানজাহান (রঃ) ষাটগম্বুজ মসজিদ নির্মাণের জন্য সমুদয় পাথর সুদুর চট্টগ্রাম, মতাত্মরে ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা বলে জলপথে ভাসিয়ে এনেছিলেন। ইমারতটির গঠন বৈচিত্রে তুঘলক স্থাপত্যের বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এ বিশাল মসজিদের চতুর্দিকে প্রাচীর ৮ ফুট চওড়া, এর চার কোণে চারটি মিনার আছে। দক্ষিণ দিকের মিনারের শীর্ষে কুঠিরের নাম রোশনাই কুঠির এবং এ মিনারে উপরে উঠার সিড়ি আছে।


মসজিদটি ছোট ইট দিয়ে তৈরী, এর দৈর্ঘ্য ১৬০ফুট, প্রস্থ ১০৮ ফুট, উচ্চতা ২২ফুট। মসজিদের সম্মুখ দিকের মধ্যস্থলে একটি বড় খিলান এবং তার দুই পাশে পাঁচটি করে ছোট খিলান আছে। মসজিদের পশ্চিম দিকে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট ২৬টি দরজা আছে। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব ও যাদুঘর বিভাগ পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের জন্য এ ঐতিহাসিক মসজিদ এবং খানজাহান (রঃ) এর মাজার শরীফের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে । ইউনেস্কো এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অমত্মর্ভূক্ত করেছে।


কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাগেরহাটে বাসে যাওয়ার দুইটি ভিন্ন রুট রয়েছে। একটি হচ্ছে ঢাকার গাবতলি হয়ে -আরিচা ফেরি পারাপার হয়ে খুলনা বাগেরহাট। আর অন্যটি গুলিস্তান / সায়দাবাদ হয়ে মাওয়া ফেরি / লঞ্চ পারাপার হয়ে বাগেরহাট। গুলিস্তান থেকে ছাড়ে দোলা পরিবহন। মাওয়া হয়ে সরাসরি বাগেরহাট বাস স্ট্যান্ড। ভাড়া ৩৭০ টাকা মত। সায়দাবাদ থেকে ছাড়ে ফাল্গুনী পরিবহন। ভাড়া ৪০০ টাকার মত। গাবতলি থেকে ছাড়ে সাকুরা পরিবহন ও দিগন্ত পরিবহন। ভাড়া ৫০০-৫৫০ টাকা।
বিখ্যাত খাবার: নারকেল দিয়ে বিভিন্ন সুস্বাদু তরকারী প্রস্তুত হয় বাগেরহাটে, সেগুলো স্বাদের জন্য বিখ্যাত। এছাড়া বাগেরহাট চিংড়ীর জন্যও বিখ্যাত। বিভিন্ন চিংড়ীর রেসিপি পাওয়া যাবে খাবার জন্য।
ষাট গম্বুজ মসজিদ ছাড়াও বাগেরহাটে আরও বেশ কিছু মসজিদ যেমন নয় গম্বুজ মসজিদ, সিংগড়া মসজিদ, খান জাহান আলীর মাজার, বাগেরহাট জাদুঘর ইত্যাদিও মনোযোগের দাবিদার।
তথ্যসুত্র: বাগেরহাট প্রশাসন, প্রিয়
লেখা: মেহজাবিন চৌধুরী

Facebook Comments
এতিহ্যবাহী ষাট গম্বুজ মসজিদ, বাগেরহাট: আমাদের গর্বের স্থাপত্য