;

রাতের জাঁকজমকের জন্য বিখ্যাত শহরসমূহ

বিশ্বের বহু শহর রয়েছে যেগুলো উন্নত থেকে উন্নত হয়ে যাচ্ছে সময়ের সাথে সাথে। উন্নত এক একটা বিস্ময় নিয়ে হাজির হচ্ছে প্রতিটি দেশ তবে এত সব উন্নয়নের ভিড়েও বহু শহর এখনও রাতে থাকে নিষ্প্রাণ। তবে বিশ্বের এমনও কিছু শহর রয়েছে যেগুলো রাতের জাঁকজমকের জন্য বিখ্যাত। আজ রইল সেসব শহর গুলো নিয়েই আয়োজন।

লাস ভেগাস

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত এক শহর লাস ভেগাস যে শহরের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে জুয়া আর নাচ-গান। ‘পার্টি সিটি’ লাস ভেগাস হল টাকা অপচয়ের জন্য আদর্শ জায়গা। ধনকুবের ও শখের জুয়াড়িরা হাজার হাজার কোটি টাকা প্রতি রাতে শেষ করে দেন এই শহরে। দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টাই নাচে-গানে হৈচৈয়ে মেতে থাকে লাস ভেগাস। এক সেকেন্ড না থেমেও যে শহর উৎসব করে যায় তাদের রাজা লাস ভেগাস। খাবারের আয়োজনেও লাস ভেগাস যে কাউকে বিস্মিত করবে।বিশাল দালানগুলোর ছাদে বসে এসব পার্টি। এখানে নাচ-গান করার জন্য প্রফেশনাল নৃত্যশিল্পীদের মেলা বসে। সিনেমার নায়িকারা এসে আমোদ-বিনোদনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। হাজার মাইল পেরিয়ে অনেক পর্যটকও লাস ভেগাসে কেবল রাতের উৎসব দেখতে ছুটে আসেন।

কায়রো

সিনাই উপদ্বীপ আর আফ্রিকা মহাদেশের সেতু বলা হয় মিসরকে। মিসরের রাজধানী কায়রোর গায়ে এখনো পুরনো ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির ঘ্রাণ রয়ে গেছে। কায়রোতে রাত যত বাড়ে মানুষের কোলাহল ততই বাড়তে থাকে। বদলে যেতে থাকে গোটা শহরের চিত্র। বন্ধুদের নিয়ে নাচ-গান আর খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন বাড়তে থাকে।আরব দেশের ঐতিহ্য ছোঁয়া কফি থাকে হাতে হাতে। রাস্তার দুই পাশে গজিয়ে থাকা ছোট ছোট ক্যাফেগুলো সারা রাত মুখর থাকে মানুষে। রাতের নীরবতা ভেঙে আড্ডা আর হাসি-ঠাট্টায় ক্যাফে-গুলোয় অন্যরকম পরিবেশ তৈরি হয়। কায়রোর রাত দেখে মুগ্ধ হননি এমন পর্যটক বোধহয় দুনিয়ায় খুব কমই পাওয়া যাবে।

রাতের জাঁকজমকের জন্য বিখ্যাত শহরসমূহ

নিউইয়র্ক সিটি

রাতজাগা শহর নামটি যেই শহরটির নামের সাথে জড়িয়ে আছে ওতপ্রোত ভাবে সেটি হল নিউইয়র্ক সিটি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের টাইম স্কয়ারকে কেন্দ্র করে রাতজাগা মানুষের এক বিশাল রাজধানী গড়ে উঠেছে। আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের সাবওয়ে সিস্টেম কখনই বন্ধ হয় না। ভোর হওয়ার আগ মুহূর্তে মাত্র ঘণ্টা দুয়েক ঝিমিয়ে আবার পুরো দমে জেগে ওঠে এই শহরটি। তবে শহরের টাইম স্কয়ারে পর্যটকদের ভিড় এক সেকেন্ডের জন্য কমে না। সাগরের ঢেউয়ের মতো একের পর এক আসতে থাকে জনস্রোত। আলো ঝলমলে এই শহরের দালানগুলো রাতে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে আরও বেশি। নাইট ক্লাবগুলোয় প্রচণ্ড ভিড়ে নাচে-গানে মানুষের হৈচৈ কথা বলাই দায় হয়ে যায়।যারা নাইট ক্লাবে হৈ-হুল্লোড় এড়িয়ে চলতে চান তারা শহরের রাস্তায় রাস্তায় আড্ডা আর খাওয়া-দাওয়া করে রাত পার করে দেন।বিশ্বের নামীদামী রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে আর নাইট ক্লাব নিউইয়র্ক সিটিকে মাছের জালের মতো পেঁচিয়ে আছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা টাইম স্কয়ারে ছুটে আসেন। রাতজাগা এই শহরটিতে সবাই সবার বন্ধু।

সাও পাওলো

ব্রাজিলের সবচেয়ে ঝলমলে শহরের নাম হল সাও পাওলো। ধনীদের শহর বললেও একে ভুল হবে না। ব্রাজিল মানেই নাচ-গান আর হৈ-হুল্লোড়। সাও পাওলোর নামের সেই খেতাব ছেড়ে দেওয়ার নয়। সাও পাওলোতে তাই কখনো নাচ-গান থামে না কখনই। রাতে এই শহরে আরাম, আয়েশ আর বিনোদনের সব ধরনের আয়োজন আছে নাইট ক্লাবগুলোয়। ডিস্কো আর ব্যালাড নাচের জন্য সাও পাওলোর নাইট ক্লাবগুলো বিখ্যাত। ডিজে পার্টির জন্যও অনেকে ছুটে আসেন এই শহরে। ব্রাজিলের বেশির ভাগ নাইট ক্লাবেই ডিজে পার্টির আয়োজন রয়েছে।

রাতের জাঁকজমকের জন্য বিখ্যাত শহরসমূহ

বুয়েনস আইরেস

পর্বতের সমুদ্র পেরিয়ে অসাধারণ এক দেশ আর্জেন্টিনা। সে দেশেরই রাজধানী বুয়েনস আইরেস। না ঘুমিয়ে আনন্দের সাথে চলা এক শহর এটি। নাচ-গান, মদের আসর, রাতের খাবারের বিশাল আয়োজন সবই তো আছে এখানে। মেগা ক্লাবের শহর হিসেবে খ্যাত বুয়েনস আইরেসের মানুষেরাও দারুণ বিনোদন-প্রেমী। পার্টি করার সুযোগ তারা হাতছাড়া করতে চায় না কখনই। এই শহরে রাত কাটিয়েছেন আর নাচ-গান করে রাত পার করেননি, এ কথা কেউ বিশ্বাস করবে না।

কন্ট্রিবিউটর – মীর মাইনুল ইসলাম

Facebook Comments
বিখ্যাত যে শহরসমূহে রাত বেশি জাঁকজমক!!