;

ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান

বাগান মানেই প্রতিটি মানুষের কাছে অসাধারণ সৌন্দর্য ভরা এক স্থান। যেখানে বাহারি রং এর ফুল, গাছপালার মেলা থাকবে। থাকবে বিশাল ঘুরে বেড়াবার জায়গা। তবে উদ্যান বা বাগান মাটির কাছে হবে এমন ভাবনাটাই তো স্বাভাবিক। বিশ্বের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটা স্বাভাবিক হলেও এর কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। এরকমই একটি ব্যতিক্রমী বাগান হলো ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান।

আমরা সবাই জানি ইরাক দেশটির অধিকাংশ জুড়েই রয়েছে মরুভূমি। অনেক বছর আগে এই দেশেই ব্যাবিলন নামে একটি শহর ছিলো। এ শহরটি গড়ে উঠেছিলো ইউফ্রেটিস নদীকে কেন্দ্র করে নদীটির পাশেই। এই সময় ইরাকের এই ব্যাবিলন শহরের রাজা ছিলেন নেবুচাঁদনেজার। তিনি একদিন এক অদ্ভুত পরিকল্পনা করে বসলেন। স্ত্রীর বিনোদনের জন্য মরুভূমির ভিতরেই তিনি একটি উদ্যান তৈরির পরিকল্পনা করে ফেললেন। কিন্তু বালুময় মরুভূমিতে গাছ বাঁচানোই এক বিশাল সমস্যা কারণটা সেখানে রয়েছে পানির স্বল্পতা। তাই স্বাভাবিকভাবে বাগান তৈরি করা এক কথায় প্রায় অসম্ভব। এজন্যই রাজা এক বিশেষ পদ্ধতিতে বাগান তৈরির পরিকল্পনা নিলেন।

প্রথমেই তিনি পাহাড়ের মতো একটি জায়গা তৈরি করলেন।এই পাহাড়কে কয়েকটি তলায় ভাগ করে প্রতিটি তলার চারপাশে বারান্দার মত তৈরি করলেন। এই বারান্দাতেই হাজারও রঙের ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগানো হয়েছিলো। রাজার তৈরি রু উদ্যানটি দেখলে মনে হতো যেন গাছগুলো সব শূন্যে ভেসে আছে। মাটির গাছে আকাশে উড়ার ব্যাপারটি সেই সময়ে ছিল এক বিশাল আশ্চর্য। মরুভূমিতে কোনো গাছই যেখানে জন্মানো দুঃসাধ্য প্রায়। সেই জায়গায় এমন সুন্দর একটি বাগান তৈরি রীতিমতো আশ্চর্যের বিষয়। যদিও একটা প্রাচীন সময় থেকে দেখলে দেখা যায় মেসোপটেমীয় সভ্যতার মধ্যে এই ব্যাবিলনের সভ্যতা অন্যতম পুরাণ ও সমৃদ্ধ। ইউফ্রেটিস নদীর তীরে গড়ে ওঠা ব্যাবিলন শহরটি ছিল অসাধারণ জাঁকজমকপূর্ণ। শহরের সামনের দিকেই ছিল মজবুত ও উঁচু প্রবেশ পথ। আবার শহরের মধ্যে একটি বড় স্তম্ভও তৈরি করা হয়েছিল। যার নাম ছিল ব্যাবিলন টাওয়ার।

ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান

তবে এই বিস্ময়কর বাগানটি অবশ্য অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। পারস্য সম্রাট সাইরাস ৫১৪ খৃস্টপূর্বাব্দে জেরুজালেম দখল করে শহরটি ধ্বংস করেন। তাদের উপাসনালয় এবং রাজপ্রাসাদসহ সব কিছু পুড়িয়ে দেন। তার সময় থেকেই ব্যাবিলনের সাম্রাজ্য ম্লান হতে থাকে। তবে এই শূন্য উদ্যান নিয়ে আধুনিক যুগে রয়েছে হাজারও বিতর্ক।আধুনিক কিছু গবেষকদের মতে ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান বলতে কিছুই আসলে ছিল না। এটি আসল্র সাহিত্যিকদের মনগড়া সৃষ্টি। আবার কিছু গবেষক ও ইতিহাসবিদ মনে করেন ব্যাবিলনের ঝুলন্ত বাগান আসলে ব্যাবিলনে ছিল না। এটি ছিল ইরাকেরই প্রাচীন সাম্রাজ্য এসিরিয়ার নগর নিনেবেহ-তে। এবং নির্মাণ করেছিলেন এসিরিয়ার রাজা সিনেক্রেব।

তবে কয়েক বছর আগে কিছু বিজ্ঞানী ব্যাবিলনের এই উদ্যানটির কিছু ভাঙা দেয়াল খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। বাগানটি নিয়ে এত শত পক্ষে বিপক্ষের কথা আছে, বাগানটির গঠন ও অবস্থানগত দিক নিয়ে নানা বিতর্কও আছে। তবে প্রাচীন ইরাকে একটি আধুনিক ছাদ-বাগান বা ঝুলন্ত বাগান যে ছিল একথা কেউই অস্বীকার করেনি।

কন্ট্রিবিউটর – মীর মাইনুল ইসলাম

Facebook Comments
ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান: যে উদ্যান সবসময় শূন্য