;

বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকো পার্ক

যমুনা নদীর তীরে গড়ে উঠা দারুণ প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত এক জেলা হলো সিরাজগঞ্জ। এই জেলাটিতে দেখার মত রয়েছে বহু দৃষ্টিনন্দন স্থান। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা জায়গায় পরিপূর্ণ সিরাজগঞ্জ তাই হতে পারে আপনার ভ্রমণ গন্তব্য। যারা সপ্তাহে এক দিনের বেশি ছুটি পান না কিন্তু ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করে তাদের ঘোরার জন্য আদর্শ জায়গা হলো সিরাজগঞ্জ। আর এই সিরাজগঞ্জের এক আরণ্যক সৌন্দর্যের স্থান হলো বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকো পার্ক। সবুজে ঘেরা অরণ্যে প্রকৃতির সান্নিধ্যে দারুণ কিছু সময় কাটাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এই বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকো পার্ক থেকে।

সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর কোল ঘেঁষে বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্কের অবস্থান। প্রায় ৬০০ একর জায়গার ওপরে গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক-নৈসর্গিক সৌন্দর্য মণ্ডিত এই ইকো পার্কটি। পরিবেশ বান্ধব পরিবেশে অতি কাছ থেকে নিবিড়ভাবে জীব-বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার কেন্দ্র ইকো পার্ক। ২০০৮ সালে এই ইকো পার্কটি উদ্বোধন করা হয়। বিভিন্ন প্রকার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমারোহে গড়ে তোলা হয়েছে পার্কটি। পার্কের নৈসর্গিক মনোরম পরিবেশ দৃষ্টি কাড়ে দর্শনার্থীদের। ইকোপার্ক এলাকায় চঞ্চলা হরিণের উন্মুক্ত বিচরণ, পাথির কলকাকলি, ঝাউবন, থুজার সারি সহ নানাবিধ শোভা বর্ধনকারী ফরজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের সমারোহ। ময়ূর, সজারু, খরগোশ ও বানরের হতচকিত চাহনি আর এলোমেলো হাঁটা পথ। ইকোপার্কে রয়েছে পেয়ারা, আম, আমলকী, রড়ই, ডুমুর, ডেওয়া, জলপাই, জাম, কাঠাল, তেঁতুল, ইপিল-ইপিল, আকাশমণি, আরোকেরিয়া, বকুল, শিমুল, জৈয়তন, জারুল, মহুয়া, নাগেশ্বর, করবী, ক্ঞ্চন, কাঞ্জলভাদি, টেবুবিয়া, অর্জুন ইত্যাদি বৃক্ষ। এখানে রয়েছে হরেক রকম পাখির সমাহার। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে পুরো পার্কটি।

এই পার্কের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর খুব কাছাকাছি যাবার সুযোগ। পার্কের প্রবেশ পথ ধরে একদম শেষ প্রান্তে যমুনা নদীর পাড়ে সেতুর সীমানার কাছে গিয়ে ছবি তুলতে ভোলেন না পর্যটকরা। বর্ষাকালে যমুনা নদীর পানি পার্কের সীমানা প্রায় কাছাকাছি চলে আসে যা খুবই উপভোগ্য। বৃষ্টি ভেজা সবুজ গাছপালা আর পার্কের বিভিন্ন পাখির ডাকে হারিয়ে যাবেন অন্য জগতে।

বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকো পার্ক

বিভিন্ন ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়ানোর জন্য এই ইকোপার্কটি বেশ জনপ্রিয় একটি বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। চাইলে পার্কের প্রবেশ পথের বাম দিকের পথ দিয়ে প্রবেশ করে পার্কের গহীন অংশ ঘুরে দেখতে পারেন। ভাগ্য ভাল থাকলে উন্মুক্ত অবস্থায় থাকা কিছু পশু-পাখির দেখাও পেয়ে যেতে পারেন। বিভিন্ন ফল ও ফুলের মৌসুমে গাছে গাছে ধরে থাকা ফল ও ফুল মুগ্ধ করবে আপনাকে। পার্কের খুব কাছ দিয়ে চলে গেছে রেললাইন। যা দেখতে অনেকটা মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া উদ্যানের মতো। বর্তমানে এই ইকো পার্কটিতে পর্যটকদের জন্য যোগ হয়েছে উন্নত নিরাপত্তা, ক্যান্টিন, নামাজের স্থান। পার্কের পাড় ঘেঁষে চলে যেতে পারেন সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষার জন্য তৈরি দুটি বাঁধ দেখতে। এছাড়া চাইলে ইকোপার্কের পাশে এনায়েতপুরগামী রাস্তার পাশে সায়দাবাদ পাবলিক লাইব্রেরির সামনের নিরাপদ বাঁধানো ঘাটে যমুনা নদীতে গোসল করতে পারবেন। ওই ঘাটে যেতে চোখে পড়বে বেশ কয়েকটি তাঁত, একটু থেমে দেখে নিতে পারেন তাঁতিদের শাড়ি-লুঙ্গি তৈরির অপূর্ব শিল্পকর্ম।

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। এখানে আপনাকে টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হবে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যেকোনো বাসে বঙ্গবন্ধু-যমুনা সেতু পেরিয়েই এই ইকোপার্কে পেয়ে যাবেন । আর উত্তরবঙ্গের যেকোনো জেলা থেকে এলে সিরাজগঞ্জ রোড পেরিয়ে কড্ডার মোড়ের পরেই এই ইকোপার্ক। ট্রেনে এলে যমুনা সেতু পশ্চিম স্টেশনে নামতে হবে।


ছবি – ইন্টারনেট

তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন – রুবাইদা আক্তার

Facebook Comments
বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকো পার্ক, সিরাজগঞ্জ