;

সরমংলা ইকো পার্ক

শহরের কালো ধোঁয়া থেকে মুক্ত হয়ে সবুজ বনানীর স্নিগ্ধতায় প্রাণ ভরে নির্মল আলো-বাতাস নিতে কার না মন চায়। নাগরিক যান্ত্রিকতা থেকে দূরে পালিয়ে পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের নিয়ে মনোরম কোনো জায়গায় আনন্দে মেতে উঠলে মন্দ হয় না। পাখ-পাখালীর কলতান আর সবুজের সমারোহে নতুন প্রাণ স্পন্দন পেতে তাই প্রকৃতির সান্নিধ্যই সেরা। আর তাই সকল ব্যস্ততা, কোলাহল ছেড়ে অবসরে ঘুরে আসতে পারেন রাজশাহীর সরমংলা ইকো পার্ক থেকে। সবুজ-সতেজ আরণ্যক সৌন্দর্যে নিজেকে হারাতে ঘুরে আসতে পারেন এই ইকো পার্ক হতে।

গোদাগাড়ী উপজেলার গোদাগাড়ী সদর ইউনিয়নে এই ইকো পার্কটির অবস্থান। গোদাগাড়ী উপজেলার ডাইংপাড়া মোড় থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার পূর্ব দিকে গোদাগাড়ী-আমনুরা সড়কের পার্শ্বে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে এই সরমঙ্গলা ইকোপার্ক। যে সকল ভ্রমণকারী প্রকৃতিকে ভালোবাসেন, প্রকৃতিকে খুব কাছে থেকে উপভোগ করতে চান তারা অবশ্যই সরমংলায় আসবেন। এই ইকো পার্কটি ২০০৩ সালের দিকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তৈরি করা হয়। পদ্মার পানি মিলেছে এখানে,আর তাতেই অর্ধস্বচ্ছ পানির লেক। গোদাগাড়ি উপজেলার নিত্যনন্দপুর থেকে হরিশংকরপুর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন খাড়ি তৈরি করা হয়েছে এখানে। সবুজ গাছপালায় ঘেরা এই লম্বা খাড়ি। খাঁড়ির দুই পাড়ে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। নানা জাতের গাছের মধ্যে দিয়ে ইট বিছানো সরু রাস্তা। আর খাড়ির মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সরমংলায় ফুলের বাগান ও বসার জন্য রয়েছে সবুজ বেঞ্চ। খাড়ির লেকের পার্শ্বে রাখা বেঞ্চে বসেন বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা। এখানে বসে বেড়াতে আসা লোকজন সবুজের সমাহার ও পদ্মানদী থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি আসার দৃশ্য উপভোগ করে থাকেন।অবগাহন করেন খাড়ির সৌন্দর্য। এ ছাড়াও নৌকায় চড়ে খাড়ির এপার থেকে ওপার যাওয়া-আসা করা যায়। দলবেঁধে অনেককেই জলকেলি করতে দেখা যায়। খাড়ির দুইদিকে তাকালে দেখা যায় বিশাল ফসলের মাঠ। প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত সরমংলা আসলেই মনোমুগ্ধকর।

সরমংলা ইকো পার্ক

হেমন্তে ধানের মৌ মৌ গন্ধে ভরে ওঠে খাড়ির আশপাশের পরিবেশ। ধান ও শাকসবজির ফসল চাষ হলেও এখানে শুধু সবুজেরই সমাহার দেখা যায়। এতটাই সবুজে ভরা যে সরমংলা এলাকাকে পর্যটকেরা গ্রিন হাউস হিসেবে অবহিত করে থাকেন। বোটানি এবং জীববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের শিক্ষা প্রকল্পের কাজের জন্য প্রায়ই এখানে আসেন। এখানে পেয়ারা, সুপারি, আমসহ বিভিন্ন ফলের বাগান আছে। এখানে কিছু নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষও বসবাস করে, যারা সাঁওতাল নামে পরিচিত এবং কয়েক কিলোমিটার দূরে তাদের কিছু গ্রামও আছে। চাইলে সেখান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা ফুলের বাগানও দেখতে পাবেন এখানে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে রাজশাহী বাস বা ট্রেনে যাওয়া যায়। রাজশাহী শহর থেকে গোদাগাড়ি উপজেলার ডাইংপাড়া মোড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার পূর্ব দিকে গোদাগাড়ী-আমনুরা সড়কের পাশেই সরমঙ্গলা ইকোপার্ক। গোদাগাড়ি পর্যন্ত গেটলক বাস ভাড়া চল্লিশ টাকা। সেখান থেকে ইজি বাইক ভাড়া জনপ্রতি ৫ টাকা।

যেভাবে যাবেন:

গোদাগাড়ী উপজেলায় বেসরকারি উদ্যোগে তেমন কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই। কিন্তু সরকারিভাবে পরিচালিত একটি ডাকবাংলো আছে। যেখানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তারা অবস্থান করে থাকেন। নির্দিষ্ট ফি দিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকজন এখানে অবস্থান করতে পারেন। এই ডাকবাংলোটি উপজেলা সদর হতে মাত্র ৫০০ গজ দূরে পদ্মানদী সংলগ্ন অতি মনোরম পরিবেশে অবস্থিত।

ছবি – ইন্টারনেট

কন্ট্রিবিউটর – রুবাইদা আক্তার

Facebook Comments
সরমংলা ইকো পার্ক, রাজশাহী