;

পদ্মার পাড়

বাংলাদেশ মানেই অসংখ্য নদ-নদী দিয়ে ঘেরা অবারিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। নদী শুধু এ দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার অংশ নয়, নদী এদেশের সৌন্দর্যের অন্যতম এক অনুষঙ্গ। প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নদীর বুকে ঘুরে বেড়ানো দারুণ এক আকর্ষণের নাম। নদীর তীরে পড়ন্ত বিকেলে আলো-ছায়ার অদ্ভুত খেলায় একটু একটু করে চারপাশে জমতে থাকে রক্তিম আভা। গগন জুড়ে ছেয়ে যায় তার লালিমা,তার লাবণ্য। একাকার হয়ে যায় আকাশ, নদী আর প্রকৃতি। এর সম্মিলনে সৃষ্টি হয় মোহনীয় পরিবেশ। এমনই অপার সৌন্দর্যের দেখা মিলবে রাজশাহীর পদ্মার পাড়ে। রাজশাহীর অন্যতম বিনোদনের স্থান এই পদ্মার পাড় প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের তার মোহনীয় সৌন্দর্যে অভিভূত করে চলছে অবিরাম। নদী পাড়ের নির্মল শীতল বাতাসে নাগরিক সকল অবসাদ মুছে আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন পদ্মার পাড় থেকে।

রাজশাহী নগরীর বুলনপুর থেকে বড়কুঠি ও পঞ্চবটী হয়ে সাতবাড়িয়ার প্রায় দীর্ঘ ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত পদ্মার পাড় রাজশাহীর অন্যতম এক বিনোদনের ঠিকানা। সকাল থেকে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত পর্যন্ত এখানে পদ্মা নদীর কূলে থাকে মানুষের আনাগোনা। এখানে রয়েছে জলরাশির পাশে আনন্দের ঢেউ আর প্রশান্তির সুবাতাস। ভরা পদ্মার এই নৈসর্গিক রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। পৃথিবীর সবচেয়ে কম বায়ুদূষণ-মুক্ত শহর রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের শীতল বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে আপনার। সারাদিন হৈ চৈ, আনন্দে মাতামাতি, ছোট ছোট নৌকায় পাড়ি দেওয়া এ নিয়ে মুখরিত থাকে পদ্মা নদীর পাড়। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের ভালো লাগার এক জায়গা এই পদ্মার পাড়। বিশুদ্ধ বাতাস আর নদীর সৌন্দর্যের টানে এখানে ছুটে আসেন হাজারও মানুষ। কেউ নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দেন, আবার কেউ বা মগ্ন থাকেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে, আবার কেউ কেউ পদ্মার বুকে বেড়ানোর জন্য নৌকায় ওঠে পড়েন। এখানে নদীর বুকে ভেসে বেড়ানোর জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে ছোট আকারের নৌকা।

শান্ত পদ্মার নির্মল বাতাস আর কখনও ভাঙা ভাঙা ঢেউ। অপার সৌন্দর্যের দৃশ্য এখানে দেখতে পাবেন গোধূলি লগ্নে। প্রতিদিন সান্ধ্য প্রদীপ নেভার মতোই পশ্চিমাকাশে রক্তিম সূর্য ডোবার অপরূপ শোভা এখানে আপনার দৃষ্টি সীমানায় ধরা দেবে। বর্ষা মৌসুমে পদ্মার এক রূপ আর শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার আরেক রূপ দেখা যায়। কখনো বা ছেয়ে যায় সবুজের সমারোহে আবার কখনো বা হয়ে উঠে ধূ-ধূ বালুচর। আবার শরতে পদ্মার পাড় ঢাকা পড়ে সাদা কাশ বনে ।

পদ্মার পাড়

এখানে পদ্মার ধার ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াক ওয়ে। উন্নতমানের এ সড়ক দিয়ে সহজেই বিনোদন পিপাসুরা হেঁটে পদ্মার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পারেন। রাতের আঁধারে রঙিন আলোয় ফুটে ওঠে এ জায়গার অন্য চেহারা। ‘বহির্নোঙ্গর’ আর ‘সীমান্ত নোঙ্গর’ পেরিয়ে অল্প সামান্য হাঁটা পথ পেরুলেই চোখে পড়বে সুদৃশ্য গ্যালারি সমৃদ্ধ মুক্তমঞ্চ। এটি লালন শাহ পার্ক। আঁকাবাঁকা সিঁড়ির মতো সাজানো-গোছানো গ্যালারিতে বসে অনায়াসে দেখতে পারবেন পদ্মার রূপ। বর্ষায় পাল তোলা নৌকার কলকলিয়ে ছুটে চলার অনুপম দৃশ্য। এখানে যে কোনো বড় অনুষ্ঠানের জন্য রয়েছে বিস্তৃত মুক্তমঞ্চ। সবমিলিয়ে অপরূপ এই পদ্মার পাড় আপনাকে বিমোহিত করবেই।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে রাজশাহী যেতে পারেন। ঢাকার গাবতলি, কল্যাণপুর থেকে গ্রিন লাইন এবং দেশ ট্রাভেলস এর এসি বাস রয়েছে। ভাড়া পড়বে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। এছাড়া শ্যামলী, হানিফ, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, বাবলু এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদির নন-এসি বাস রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এগুলোতে ভাড়া পড়বে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সপ্তাহের ছয়দিন সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
রাজশাহী সদর বাস টার্মিনাল থেকে সিএনজি অথবা অটোরিকশায় চড়ে সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন পদ্মার পাড়ে।

যেখানে থাকবেন:

রাজশাহীতে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল আছে। রাজশাহী শহরে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল রয়েছে। ফোন: 0721-775237। অন্যান্য আবাসিক হোটেলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হোটেল হক্স ইন, নাইস ইন্টারন্যাশনাল, মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল, ডালাস ইন্টারন্যাশনাল, শুকরান ইত্যাদি। এসকল হোটেলে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় থাকতে পারবেন।


ছবি – সংগৃহীত

তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন – রুবাইদা আক্তার

Facebook Comments
অবারিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পদ্মার পাড়, রাজশাহী