;

বার আউলিয়ার মাজার

ঢাকার খুবই নতুন নিকটের একটি জেলা হল মুন্সিগঞ্জ। নদী ও এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দরুন প্রায় সকল ভ্রমণ পিপাসুদের কাছেই এটি একটি উপভোগের জায়গা বলে জনপ্রিয়। এই সকল কিছুর বাইরেও মুন্সিগঞ্জের রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব। বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের বহু অংশ জুড়ে এই অঞ্চলটি জড়িয়ে রয়েছে। ইসলামের প্রথম যুগে সেই সময়ে বঙ্গের রাজধানী বলে জনপ্রিয় মুন্সিগঞ্জে বেশ কয়েকজন সুফি দরবেশ ইসলামের দাওয়াত দিতে ও ইসলাম প্রচারের জন্য আগমন করেন। মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানার অন্তর্গত বড় কেওয়ার গ্রামে একটি প্রাচীন শিলালিপি ও পাওয়া গিয়েছিল এই সম্পর্কিত। এই শিলা থেকে প্রমাণ মিলে যে প্রাচীন বিক্রমপুর তথা বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে একটি বড় কাফেলার আগমন ঘটে।

১৯৭৪ সালের দিকে মুন্সিগঞ্জের কেওয়ার গ্রামের তেঁতুলতলা নামক মাজারের সংস্কার কাজ চলার সময়ে এই মাজার হতে এক খণ্ড পাথরের আরবি ও ফার্সি ভাষায় লিখিত ১২ সূফী দরবেশ বা ইসলাম ধর্ম প্রচারকের নাম পাওয়া যায়। সেটিতে কালেমা লেখা ছিল এবং শিলালিপিটিতে ৪২১ হিজরি স্পষ্টাক্ষরে লেখা পাওয়া যায়। প্রাচীন এই শিলায় পর্যায়ক্রমে ১২ জন অলি বা দরবেশের নামের উল্লেখও পাওয়া যায়। ধারনা করা হয় সেই সময়ে এই অঞ্চলের শাসক শ্রীনাথ গুপ্তের রাজত্ব কালে এই অলিরা এখানে এসে ইসলামের প্রচার কাজ করেন। তারা মুন্সিগঞ্জের কেওয়ার তেঁতুলতলা গ্রামে এসে মূলত বসতি স্থাপন করেন। মাজারের শিলালিপিতে আরো উল্লেখ রয়েছে যে, আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইসলাম প্রচারে মুন্সিগঞ্জের কেওয়ার গ্রামে এসে তারা বসতি স্থাপন করেন।

বার আউলিয়ার মাজার

মাজারের শিলালিপি অনুসারে ১২ জন অলির নাম হলো: শাহ সুলতান হোসাইনী মাদানী (রহ), সুলতান সাব্বির হোসাইন (রহ), কবীর হাশিমি (রহ), আল হাসান (রহ), শেখ হোসাইন (রহ), আবুল হাশেম হোসাইনী (রহ), হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক (রহ), হযরত ইয়াছিন (রহ), ওবায়েদ ইবনে মুসলিম আসাদী (রহ), আব্দুল হালিম (রহ), শাহদাত্ হোসাইনী (রহ) এবং আবুল কাহার আল বাগদাদী (রহ)। ধারনা করা হয়ে থাকে এই সকল অলি-আউলিয়া মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে সরস্বতী, কেওয়ার, মহাকালী, বজ্রযোগিনী, চাম্পাতলা, রাজাবাড়ী, শ্রীপুর, কার্তিকপুর অঞ্চলে ইসলামের প্রচার কাজ করেন। কেওয়ার এলাকার পানির অভাব দূরীকরণে তারা এখানে দীঘিও খনন করেন। সেই ঐতিহাসিক দীঘি আজও বিদ্যমান। ১৯৭৪ সাল থেকে কেওয়ারের তেঁতুলতলা মাজার বার আউলিয়ার মাজার হিসেবে মুন্সীগঞ্জ জেলায় পরিচিতি লাভ করে। এটি স্থানীয়দের কাছে বার আউলিয়ার মাজার নামেও বেশ পরিচিত। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে মানুষের আগমন ঘটে। বিভিন্ন আশা আকাঙা লাভের আশায় বহু লোক এখানে এসে ভিড় করে। ঢাকার কাছাকাছি অবস্থিত বলে এখানে অনেকেই ঘুরতেও চলে আসেন।

ছবি ইন্টারনেট

কন্ট্রিবিউটর – মীর মাইনুল ইসলাম

Facebook Comments
বার আউলিয়ার মাজার, মুন্সীগঞ্জ