;

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়ী, মুন্সিগঞ্জ

বিজ্ঞান মানেই বিশাল এক জগৎ। যে জগতের পুরোটা জুড়েই বহু প্রশ্ন, উত্তর, সমাধান আর যুক্তি৷ বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানের বিশাল এক প্রসার লক্ষ করার মত বিষয়। তবে যে বিজ্ঞানের এমন জয় যাত্রা আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি তার পেছনের বহু পথিকদের মধ্যে একজন হলেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু কেবল একটি নাম নয় একটি ইতিহাস, একটি গর্ব । তিনি ছিলেন একজন বাঙালি পদার্থবিদ, উদ্ভিদবিদ ও জীববিজ্ঞানী এবং প্রথম দিকের একজন কল্পবিজ্ঞান রচয়িতা। গাছের প্রাণ আছে এর প্রবক্তা বাংলার কৃতি সন্তান জগদীশ চন্দ্র বসুর আদি বাড়ী মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রী নগর উপজেলায় রাড়িখালে অবস্থিত যা বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনও বটে। মূলত তার পৈত্রিক নিবাস ছিল এটি যেখানে এখন রাড়িখাল স্যার জে সি বোস ইন্সটিটিউশন ও কলেজ অবস্থিত।

এক দিনেই চাইলে যেকেউ ঘুরে যেতে পারেন এই বিশ্বখ্যাত বাঙালী বিজ্ঞানীর বাড়িটি থেকে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩৫ কিলোমিটার। এখানে বিজ্ঞানীর পুরাতন দালানটি আজও দাঁড়িয়ে আছে যা ইতিমধ্যে সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের আওতায় নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে । স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর পুরো বাড়িটি মোট ৬ কক্ষবিশিষ্ট। ইতিমধ্যেই বাড়িটির একটি কক্ষকে জাদুঘর হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে। এই বাড়ির অবাক করার বিষয়টি হল এই বাড়িটিতে মোট ৬টি দিঘীও রয়েছে। দিঘির বাধানো ঘাটে কখন বসলে আপনার মন হারিয়ে যাবে বাংলার অতীত রূপকথায় । তার পৈতৃক বাড়িটির ত্রিশ একর জায়গা জুড়ে আবার জগদীশ চন্দ্র বসু কলেজ ও কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু তার জীবিত অবস্থাতেই নিজের সমস্ত সম্পত্তি দান করে যান। সেখানেই ১৯২১ সালে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ইন্সটিটিউশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে ২০১১ সালে জগদীশ চন্দ্র বসু কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। এটি মূলত পরিচালিত হত স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ইন্সটিটিউশনের উদ্যোগে।

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়ী, মুন্সিগঞ্জ

কমপ্লেক্সটিতে নির্মিত হয়েছে জগদীশ চন্দ্র বসু স্মৃতি জাদুঘর, পশু-পাখির ম্যুরাল, কৃত্রিম পাহাড়-ঝরনা ও সিঁড়ি বাধানো বিশাল পুকুর ঘাট। জাদুঘরে জগদীশ চন্দ্র বসুর পোট্রেট, বেশ কিছু গবেষণাপত্র, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল প্রাপ্তিতে তাকে লেখা চিঠি ও রবীন্দ্রনাথের বসুকে লেখা চিঠি, তেল রং দিয়ে আঁকা ১৭টি দুর্লভ ছবি, রয়্যাল সোসাইটিতে দেওয়া বক্তৃতার কপি এবং বেশ কিছু দুর্লভ জিনিসপত্র। এই পুরো কমপ্লেক্সটির অন্যতম আকর্ষণীয় দিকটি হল এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রবেশ করতেই শান্ত-শীতল পরিবেশে আপনার মনটা জুড়িয়ে যাবে। ছোট পরিসরের এই কমপ্লেক্সটিতে পিকনিকের ব্যবস্থাও রয়েছে। নাগরিক ব্যস্ততা থেকে মুক্তি খুঁজে পেতে ঢাকা থেকে ৩৫ কিমি দূরের এ স্থানটি হতে পারে বেড়ানোর জন্য একটি অসাধারণ জায়গা।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা গোলাপ শাহর মাজারের কাছ থেকে ঢাকা-দোহার বাসে উঠবেন আর নামবেন রাড়িখাল তিনদোকান। ভাড়া পরবে ৬০ থেকে ১০০ টাকা। নেমে অটোতে রাড়ীখাল জেসি বসু কমপ্লেক্স বললেই আপনাকে পৌঁছে দেবে।

ছবি – ইন্টারনেট

কন্ট্রিনিউটর – মীর মাইনুল ইসলাম

Facebook Comments
স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়ী, মুন্সিগঞ্জ