;

বিবি বেগনি মসজিদ

মসজিদের শহর হিসেবে পরিচিত বাগেরহাট জেলা। এই জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইসলামিক স্থাপত্যের নানা নিদর্শন। প্রাচীন স্থাপত্যকর্মের এমন অসাধারণ নিদর্শন এই জেলাকে বিশ্ব দরবারেও হাজির করেছে ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে। বাগেরহাটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুসলিম স্থাপত্যের একটি বিবি বেগনি মসজিদ। ধারণা করা হয় পনের শতকের মধ্যভাগে এটি নির্মাণ করা হয়।

ষাট গম্বুজ মসজিদের সন্নিকটেই ঘোড়াদিঘির পাড়ে অবস্থিত এই বিবি বেগনি মসজিদটি অবস্থিত। এটি ইটের তৈরি এক গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ। এই মসজিদের নির্মাণ ইতিহাস খুব একটা জানা যায় না। তবে নাম থেকে ধারণা করা হয় বিবি বেগনি খান জাহানের পত্নীদের একজন। মসজিদটি খান জাহানের নির্মিত অন্যান্য স্থাপত্য নির্মাণকৌশলের সাথে এর ও মিল রয়েছে।  এছাড়াও আরো একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে বিবি বেগনি খান জাহান আলীর উপপত্নী এবং তার কবরের উপরেই এই মসজিদটি নির্মিত।

এই ধারনাটাও আসে মূলত পারস্য এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এমন স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের মসজিদ দেখতে পাওয়া যায়। কেননা সমাধি মসজিদ খ্যাত ঐসব ইমারতের মতো এই ইমারতটিতে রয়েছে তিনটি মিহরাব কুলুঙ্গি, যা মসজিদ স্থাপত্যে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে। মুসলিম অধিকৃত পারস্যে যেমন তাইয়াবাদ, তুরুক এবং পরবর্তীকালে সুলতানিয়ায় নির্মিত সুলতান ওলজেইতু অথবা ইয়াজদে্ ইমামজাদা দুভাজ্দা ইমামের সমাধিসৌধে মিহরাব আছে। এইদিকে ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত ইলতুতমিশ, গিয়াসউদ্দীন তুগলক, ও তাঁর উত্তরসূরি ফিরুজ শাহ তুগলকের সমাধি সহ সৈয়দ ও লোদী আমলের বেশ কয়েকটি সমাধি এবং সাসারামে শেরশাহের এ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

মসজিদটির চারকোণায় চারটি মিনার সহ এর পূর্ব দেয়ালে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে খিলানাকার প্রবেশপথ রয়েছে। এর পশ্চিমের দেয়ালের ভেতর দিকে রয়েছে অর্ধবৃত্তাকার খিলানযুক্ত তিনটি মিহরাব। মাঝখানেরটি অন্য দুটির চেয়ে আকারে বড়।

মসজিদটি মেহরাব সহ খিলানপথ ও মিনারে টেরাকোটার নকশা সহ নানা অলঙ্করণ দেখা যায়।

কিভাবে যাবেন:

ষাট গম্বুজের খুব পাশেই এই মসজিদটি অবস্থিত। ষাট গম্বুজ মসজিদ হতে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে যেতে পারেন বিবি বেগনি মসজিদে। এছাড়াও বাগেরহাট শহর থেকে অটোরিকশায় করে যেতে পারবেন এখানে।


ছবি – ইন্টারনেট

তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন – মোঃ সাখাওয়াত হোসেন

Facebook Comments
এক গম্বুজ বিশিষ্ট বিবি বেগনি মসজিদ, বাগেরহাট