;

চুনখোলা মসজিদ

ঐতিহাসিক বাগেরহাট জেলার অন্যতম পুরাকীর্তির একটি চুনখোলা মসজিদ। মসজিদ আর পুরাকীর্তির এই শহরটিতে এমন দৃষ্টিনন্দন ও পুরাকীর্তির নানা স্থাপনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ষাটগম্বুজ মসজিদের পশ্চিমে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের চুনোখোলা গ্রামে বিবি বেগনী মসজিদের উত্তর দিকে অবস্থিত এ মসজিদ। বাগেরহাট শহর থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। চারদিকে বিস্তৃত ধান খেতের মাঝে মসজিদটি শতবছর যাবত নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করে আসছে।

চুনখোলা মসজিদটি প্রায় ১৫ শতকে নির্মিত একটি মসজিদ। পোড়ামাটির অলংকরণে নির্মিত মসজিদটি খান জাহান আলীর সময় কালে নির্মিত। যদিও খান জাহান আলীর অন্যান্য স্থাপত্য নিদর্শনগুলো থেকে নির্মাণশৈলীর দিক থেকে আলাদা। নানা ভাষ্য মতে খান জাহান আলীর কন এক কর্মচারী মসজিদটি নির্মাণ করেন।

৭.৭ বর্গমিটার চৌকোণা দালানের দেয়ালগুলো ২.২৪ মিটার করে পুরু। মসজিদটির পূর্বদিকে ৩টি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে মোট ৫ টি প্রবেশদ্বার রয়েছে। এতে তিনটি মিহরাব রয়েছে যার মধ্যে কেন্দ্রীয় মিহরাবটি সবচেয়ে বড়। মসজিদে একটি অর্ধ গম্বুজ আছে। সালে বাংলাদেশ সরকার চুনখোলা মসজিদকে ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করে এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। ইটের দেয়ালসমূহ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরে ১৯৮০ সালে ইউনেস্কোর সহায়তায় সংস্কার করা হয়।

চুনখোলা মসজিদ

কিভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে বাগেরহাটে বাসে যাওয়ার দুইটি ভিন্ন রুট রয়েছে। একটি হচ্ছে ঢাকার গাবতলি হয়ে -আরিচা ফেরি পারাপার হয়ে খুলনা বাগেরহাট। আর অন্যটি গুলিস্তান / সায়দাবাদ হয়ে মাওয়া ফেরি / লঞ্চ পারাপার হয়ে বাগেরহাট। গুলিস্তান থেকে ছাড়ে দোলা পরিবহন। মাওয়া হয়ে সরাসরি বাগেরহাট বাস স্ট্যান্ড। ভাড়া ৩৭০ টাকা মত। সায়দাবাদ থেকে ছাড়ে ফাল্গুনী পরিবহন। ভাড়া ৪০০ টাকার মত। গাবতলি থেকে ছাড়ে সাকুরা পরিবহন ও দিগন্ত পরিবহন। ভাড়া ৫০০-৫৫০ টাকা।

বাগেরহাট বাস স্ট্যান্ড রিকশা বা অটোতে করে যেতে পারেন ষাট গম্বুজ মসজিদ থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে ধান খেতের ধারে এই মসজিদটিতে।

ছবি – ইন্টারনেট

তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন – মোঃ সাখাওয়াত হোসেন

Facebook Comments
ঐতিহাসিক চুনখোলা মসজিদ, বাগেরহাট