;

শিলুয়ার শিল পাথর

আমাদের দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো আমাদের অতীত ইতিহাস ও জাতিগত সত্তাকে তুলে ধরে। আর এসকল প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান। নানান জেলার নানান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো তাই পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য। একেক জেলার একেক ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো বিভিন্ন ইতিহাসকে ধারণ করে আছে। আর তেমনি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হলো ফেনীর শিলুয়ার শিল পাথর। আপনার ফেনী ভ্রমণে দেখতে ভুলবেন না শিলুয়ার শিল পাথর।

ছাগলনাইয়া হতে ৫-৬ মাইল দূরে শিলুয়া চৌধুরী বাজারের ৫০ গজ পশ্চিমে ও শিলুয়া চৌধুরী বাড়ীর পূর্ব পার্শ্বে ছায়া সুনিবিড় স্থানে এই শীলটি অবস্থিত । এক প্রাচীন ঐতিহাসিক শিলামূর্তির ধ্বংসাবশেষ হচ্ছে এই শিল পাথর। এই শিলাটি প্রাচীন কীর্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই শিলামুর্তির গায়ে খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় অব্দে প্রচলিত ব্রাক্ষ্মী হরফের লিপি থেকে আর্য সভ্যতা বিকাশের প্রমাণ পাওয়া যায়। ব্রিটিশ আমল থেকে প্রাচীন এই ঐতিহাসিক স্মৃতি চিহ্নটি প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত হয়েছে। অনেক আগে শিলুয়া গ্রামটির নাম ছিলো রত্ননগর।বেশ কয়েক শতাব্দী আগে এ রত্ননগরে একটি পাথর আবিষ্কার হয় যে পাথরটি জীবিত পাথর হিসাবে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার যাদুঘরের অধীনে নিয়ে নেয়। এ জীবিত পাথরটির নাম অনুযায়ী তখনকার রত্ননগর গ্রামটির নাম হয়ে যায় শিলুয়া।একে আবার চার ভাগে ভাগ করা হয়। মধ্যম শিলুয়া, পূর্ব শিলুয়া, পশ্চিম শিলুয়া, বেদরাবাদ শিলুয়া। এই শিলটি যে জায়গায় অবস্থিত তার নাম মধ্যম শিলুয়া। জায়গাটা শিলুয়া চৌধুরী বাড়ীর সামনে এবং এ জায়গার মালিকানা ছিলো চৌধুরী বাড়ীর। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার একয়ার করে জাদুঘরের অধীনে নিয়ে নেয়। কোনো এক কালে হিন্দু সম্প্রদায় এ শিলা খণ্ডকে ঘিরে নানান পূজা আর্চনা করতো।

শিলুয়ার শিল পাথর

এই স্থানটির চার পাশে লোহার পিলার ও কাটা তার দিয়ে ঘেরাও দেওয়া। এই স্থানের বৃক্ষরাজি ছায়াচ্ছন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের বসার জন্য দুটি বেঞ্চ আছে। পাথরটি একটি টিন ও কাঠের চৌচালা ঘরদিয়ে আচ্ছাদিত। এই শিলটিকে ঘিরে নানান কল্পকথা ও লোককথা প্রচলিত আছে। অনেকেই এই শিলার নানান অবাক করা কাহিনী বলে থাকেন । এলাকায় এটি শিল ঘর হিসাবে বেশি পরিচিতি। এর কারণে ব্রিটিশ আমলে শিলটির উপরে একটা সুন্দর ছাউনি দেওয়া হয়েছিলো। আর জায়গাটার চারপাশ লোহার রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছিলো এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন দারোয়ান ছিলো। তবে কালের বিবর্তনে এখন আর রেলিংগুলো নেই আর দারোয়ান ও নেই। শিলটি দেখতে বহু দূর-দূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক আসে। এই শিলটি এখনো জীবিত পাথর হিসাবে পরিচিত।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে স্টার লাইন, সৌদিয়া, কেয়া, শ্যামলী ইত্যাদি পরিবহনের বাস ফেনীর উদ্দেশ্যে যায়। চট্টগ্রাম থেকেও ট্রেনে ফেনী আসতে পারেন।
ফেনী সদর হতে সিএনজি অটোরিকশা অথবা বাস যোগে পৌঁছে যেতে পারবেন ছাগলনাইয়ার শিলুয়া বাজারে।

যেখানে থাকবেন:

থাকার জন্য ফেনীতে রয়েছে সরকারী রেস্ট হাউস ও বাংলো। এগুলোতে থাকার জন্য আগে থেকে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া ফেণীতে বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে এগুলোতোও থাকতে পারবেন।

১। ফেনী সার্কিট হাউস: ফেণী শহরের অদূরে বিজয়সিংহ দিঘীর পাড়ে অবস্থিত।

২। এলজিইডি রেস্ট হাউস : ফেণী শহরে ফেনী কুমিল্লা রোডের পাশে ।

৩। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস মহিপাল থেকে ফেণী শহরের দিকে যাওয়ার পথে শহীদ শহীদুল্যাহ কায়সার সড়কের পাশে।

৪। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউস: মহিপাল মোড় হতে প্রায় ১.৫ কি:মি: দক্ষিণে ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ের পাশে অবস্থিত।

৫। ফেণী শহরে বেশকিছু হোটেল রয়েছে। আরো ভালো পরিবেশে থাকতে চাইলে। ফেণীর নিকটবর্তী কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামে অবস্থিত ভিটা ওয়ার্ল্ডে থাকতে পারবেন। ফোন: ০১৭৩৩ ৩৩১ ৯৫৭।

ছবি – ইন্টারনেট

কন্ট্রিবিউটর – রুবাইদা আক্তার

Facebook Comments
শিলুয়ার শিল পাথর : ফেনীর প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন