;

রাজাঝির দিঘী

আমাদের দেশের অনাবিল গ্রাম-বাংলার সৌন্দর্যে দিগন্ত জোড়া দিঘি এক অন্যতম অনুষঙ্গ। চিরায়ত বাংলার রূপে সৌন্দর্যের ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে সুবিশাল দিঘিগুলো। এই বাংলায় যেমন রয়েছে অনবদ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভাণ্ডার আর প্রাচীন স্থাপনা তেমনি সেগুলোকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য উপকথা, লোককথা ও কল্পকাহিনী। তেমনি বিভিন্ন জেলার দিঘিগুলোকেও ঘিরে প্রচলিত আছে নানান লোককথা ও কল্পকাহিনী। আর দিঘিগুলোর সৌন্দর্যও দারুণ নজরকাড়া। অপরূপ সৌন্দর্যের এই দিঘিগুলোর শীতল জলে মন-প্রাণ জুড়াতে কার না ভাল লাগে। আর তেমনি একটি সৌন্দর্যমন্ডিত দিঘি হলো ফেনীর ঐতিহ্যবাহী রাজাঝির দিঘী।

ফেনী জেলার জিরো পয়েন্টে ফেনী রোড ও ফেনী ট্রাংক রোডের সংযোগ স্থলে রাজাঝির দিঘী অবস্থিত। এই দিঘিটি যেমন সৌন্দর্যে ঘেরা তেমনই এটি জড়িয়ে আছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে। রাজাঝির দীঘির আরেকটি নাম হল রাজনন্দিনীর দীঘি। ফেনীর অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী দীঘি এটি। লোককথা প্রচলিত আছে, ত্রিপুরা মহারাজের প্রভাবশালী একজন রাজা তার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার মানসে প্রায় পাঁচ-সাত শত বছর পূর্বে এ দীঘিটি খনন করেছিলেন। স্থানীয় ভাষায় কন্যা-কে ঝি বলা হয়। তাই দীঘিটির নামকরণ করা হয় রাজাঝির দিঘী।

রাজাঝির দিঘী

প্রায় দেড়শ বছর আগে এ দীঘির পাড়ে গড়ে ওঠা প্রশাসনিক কার্যালয়গুলো ১৯৮৪ সালে ফেনী জেলা হওয়ার পর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে কিছু ভবন এখন পরিত্যক্ত পড়ে রয়েছে। ১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে তার সদর দপ্তর গড়ে তোলা হয় এই দীঘির পাড়ে। এখন দীঘির পাড়ে ফেনী সদর থানা, ফেনী কোর্ট মসজিদ, অফিসার্স ক্লাব, ফেনী রিপোর্টাস ক্লাব, জেলা পরিষদ পরিচালিত শিশু পার্কসহ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন গড়ে উঠেছে। এ দীঘিটি ফেনীর শতবর্ষ ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে। শতবছরেও দীঘির স্বচ্ছ জল আর চারপাশের নির্মল সৌন্দর্য বজায় আছে। কংক্রিটের জঞ্জাল থেকে বেড়িয়ে নির্মল বায়ুতে প্রশ্বাস নিতে নগরবাসী ছুটে আসেন এই দিঘীর পাড়ে। সববয়সী মানুষের আনাগোনা দেখা যায় এখানে।
দর্শনার্থীর বসার জন্য দিঘীর পূর্ব-দক্ষিণ পাশে গাড়ের উপর পাকা সিঁড়ি রয়েছে। চলাচলের জন্য দীঘির দুইপাশ (উত্তর ও পশ্চিম) কিছুটা উম্মুক্ত রাখা হয়েছে। দীঘির জলে যাতে সবাই নামতে পারে সেইজন্য তিন পাশে পাঁচটি সিঁড়ির নির্মাণ করা হয়েছে।

যেভাবে যাবেন:

দেশের যেকোনো স্থান থেকে ফেনীর বাসে চড়ে মহিপাল বাস স্ট্যান্ডে নামতে পারেন। সেখান থেকে রিক্সা অথবা সিএনজি যোগে পৌঁছে পারবেন রাজাঝির দিঘী। এছাড়া ট্রেনে গেলে রেলওয়ে স্টেশন থেকে রিকশাযোগেও পৌঁছাতে পারেন।

যেখানে থাকবেন:

থাকার জন্য ফেনীতে রয়েছে সরকারী রেস্টহাউস ও বাংলো। এগুলোতে থাকার জন্য আগে থেকে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া ফেণীতে বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে এগুলোতোও থাকতে পারবেন।

১। ফেনী সার্কিট হাউস: ফেণী শহরের অদূরে বিজয়সিংহ দিঘীর পাড়ে অবস্থিত।

২। এলজিইডি রেস্ট হাউস : ফেণী শহরে ফেনী কুমিল্লা রোডের পাশে ।

৩। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস মহিপাল থেকে ফেণী শহরের দিকে যাওয়ার পথে শহীদ শহীদুল্যাহ কায়সার সড়কের পাশে।

৪। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউস: মহিপাল মোড় হতে প্রায় ১.৫ কি:মি: দক্ষিণে ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ের পাশে অবস্থিত।

৫। ফেণী শহরে বেশকিছু হোটেল রয়েছে। আরো ভালো পরিবেশে থাকতে চাইলে। ফেণীর নিকটবর্তী কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামে অবস্থিত ভিটা ওয়ার্ল্ডে থাকতে পারবেন। ফোন: ০১৭৩৩ ৩৩১ ৯৫৭।

ছবি – ইন্টারনেট

কন্ট্রিবিউটর – রুবাইদা আক্তার

Facebook Comments
রাজাঝির দিঘী, ফেনী