;

চাঁদ গাজী ভূঁইয়া মসজিদ

আমাদের দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা আমাদের অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে এখনো স্ব-মহিমায় নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়। প্রতিটি জেলার এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা যেমন আমাদের দেশের সৌন্দর্যের অন্যতম অনুষঙ্গ তেমনি পর্যটকদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। আর এই সকল স্থাপনার মধ্যে একটা বড় অংশ জুড়ে আছে বিভিন্ন জেলার অসংখ্য মসজিদ। তেমনি একটি প্রাচীন মসজিদ হল চাঁদগাজী ভূঁইয়া জামে মসজিদ।

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় চাঁদগাজী ভূঁইয়া জামে মসজিদ অবস্থিত। চাঁদ খাঁ মসজিদ নামে পরিচিত চাঁদগাজী ভূঁইয়া মসজিদটি ফেনী জেলার একটি প্রাচীন মসজিদ। এই মসজিদটি বাংলাদেশের অন্যতম মোঘল আমলের অনিন্দ্য সুন্দর প্রাচীন এক স্থাপনা। এটি হিজরি ১১১২ সালে নির্মাণ করা হয়। মসজিদের সামনের দরজায় রক্ষিত শিলালিপি থেকে জানা যায় জনৈক চাঁদ গাজী ভুঁইয়া নামক এক ব্যাক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। চাঁদ গাজী ভূঁইয়া ২৮ শতক জমির ওপর এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির নির্মাণের ধরণ সত্যিই অপরূপ। মুঘল আমলের মসজিদের স্থাপত্যে শ্বেতপাথর বা এ ধরণের জিনিসই বেশি দেখা যায়। কারুকাজও করা হয় এসব দিয়েই। তবে এই মসজিদটির কারুকাজ মাটির। এই মসজিদের তিনটি গম্বুজই এক সারিতে অবস্থিত যেগুলোর মধ্যে মাঝখানের গম্বুজটির আকার অন্যান্য গম্বুজগুলোর তুলনায় বড়। চাঁদ গাজী ভুঁইয়া মসজিদের গম্বুজগুলোর উপরে পাতা এবং কলসের নয়নাভিরাম নকশা রয়েছে যা মসজিদের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

চাঁদ গাজী ভূঁইয়া মসজিদ

গম্বুজগুলো ব্যতীত এই মসজিদের দেয়ালের উপর সমান্তরালভাবে ১২ টি মিনার রয়েছে যেগুলোর স্থাপত্যশৈলী একই ধরনের। মিনারগুলোর মধ্যে চারটি চার কোণায় অবস্থিত এবং বাকি ৮টি মিনার দেয়ালের উপর অবস্থিত। মসজিদের এক সারিতে তিনটি গম্বুজ অবস্থিত যার মধ্যে মাঝখানের গম্বুজটির আকার তুলনায় বড়। চাঁদ গাজী ভুঁইয়া মসজিদের পূর্ব দিকের দেয়ালে এবং সামনের দরজার উপরে টেরাকোটার নকশা রয়েছে। মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গম্বুজের উপরে পাতা এবং কলসের নয়নাভিরাম নকশা করা হয়েছে। মসজিদের সামনের অংশে শ্বেত পাথরের নামপলক এর বর্ণনা রয়েছে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে স্টার লাইন, সৌদিয়া, কেয়া, শ্যামলী ইত্যাদি পরিবহনের বাস ফেনীর উদ্দেশ্যে  যায়। চট্টগ্রাম থেকেও ট্রেনে ফেনী আসতে পারেন।

তারপর ফেনী থেকে যেতে হবে ছাগলনাইয়া। ফেনী থেকে সিএনজি বা অটোরিক্সায় ছাগলনাইয়া, ছাগলনাইয়া থেকে আবার সিএনজি বা অটোতে যাবেন চাঁদগাজী বাজার। বাজার থেকে হেঁটে বা রিক্সায় পৌঁছে যেতে পারবেন চাঁদ গাজী ভূঁইয়া মসজিদ।

যেখানে থাকবেন:

থাকার জন্য ফেনীতে রয়েছে সরকারী রেস্টহাউস ও বাংলো। এগুলোতে থাকার জন্য আগে থেকে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া ফেণীতে বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে এগুলোতোও থাকতে পারবেন।

১। ফেনী সার্কিট হাউস: ফেণী শহরের অদূরে বিজয়সিংহ দিঘীর পাড়ে অবস্থিত।

২। এলজিইডি রেস্ট হাউস : ফেণী শহরে ফেনী কুমিল্লা রোডের পাশে ।

৩। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস  মহীপাল থেকে ফেণী শহরের দিকে যাওয়ার পথে  শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের পাশে।

৪। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউস: মহীপাল মোড় হতে প্রায় ১.৫ কি:মি: দক্ষিণে ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ের পাশে অবস্থিত।

৫। ফেণী শহরে বেশকিছু হোটেল রয়েছে। আরো ভালো পরিবেশে থাকতে চাইলে। ফেণীর নিকটবর্তী কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামে অবস্থিত ভিটা ওয়ার্ল্ডে থাকতে পারবেন। ফোন: ০১৭৩৩ ৩৩১ ৯৫৭।

ছবি  ইন্টারনেট

কন্ট্রিবিউটর – রুবাইদা আক্তার

Facebook Comments
চাঁদ গাজী ভূঁইয়া মসজিদ, ফেনী