;

নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট

বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ বলেই পুরো দুনিয়া জুড়ে অধিক পরিচিত। ভৌগলিক অবস্থানের দরুন হাজারও নদী এদেশের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। এই সকল নদীর উন্নয়ন ও বহমানতা ঠিক রাখার জন্য বহু প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হল নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট।

দেশের বিভিন্ন পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ, নকশা প্রণয়ন এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে থাকে ফরিদপুরে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি। এ ইন্সটিটিউটের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভৌত নমুনা সমীক্ষা পরিচালনা করা, বিভিন্ন মৃত্তিকা পরিমিতি বিষয়ক নির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণের গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ, পানির গুণাগুণ বিশ্লেষণ, নদীবাহিত তলদেশীয়, ভাসমান এবং দ্রবীভূত পলল বিশ্লেষণ করাই প্রধান কাজ। নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে এটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রলিক গবেষণাগার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৯১ সালের ২০ আগস্ট এ ইন্সটিটিউট এক অধ্যাদেশ বলে পৃথক একটি জাতীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠে এ প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তরটি অবস্থিত।

নদী গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান দায়িত্বসমূহের মধ্যে নদী প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা, নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও পানি নিষ্কাশন বিষয়ে ভৌত মডেল সমীক্ষা পরিচালনা এবং নদী প্রকৌশল, পলি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, মোহনা ও জোয়ারভাটার প্রভাব প্রভৃতি বিষয়ে গবেষণাকর্ম পরিচালনা অন্যতম।পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত নয় সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা বোর্ড দ্বারা নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট পরিচালিত হয়। নীতি নির্ধারণ বিষয়ক নির্দেশনা প্রদান, ইন্সটিটিউটের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাসমূহ অনুমোদনের বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দেশের পানি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রকল্পে নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট শতাধিক ভৌত মডেল সমীক্ষা কার্য পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকল্প হচ্ছে: বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু প্রকল্প, বাহাদুরাবাদ ও কামারজানিতে যমুনা তীর রক্ষা প্রকল্প এবং তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প।

নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট

বর্তমানে এ ইন্সটিটিউট বঙ্গবন্ধু সেতু, গড়াই নদী পুনরুদ্ধার, ধলেশ্বরী সেতু ১ ও ২, ঢাকা সেতু প্রভৃতি প্রকল্পের ভৌত মডেল সমীক্ষাকার্য পরিচালনা করছে। নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট ১৯৯১ সাল থেকে প্রতি বছর RRI Technical Journal নামের একটি গবেষণা সাময়িকী প্রকাশ করছে। বিগত বছরগুলোতে নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইন্সটিটিউটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করেছে। ফরিদপুর ঘুরতে আসা বহু ভ্রমণ পিপাসু এখানে একবার হলেও ঘুরে যায়। এখানে নদী গবেষণা বিষয়ক কিছু জিনিস প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করলে পর্যটকেরা এসে ঘুরে আরও বেশি আনন্দ পেত।


ছবি – সংগৃহীত

তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন – মীর মাইনুল ইসলাম

Facebook Comments
নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট, ফরিদপুর