;

মমিন মসজিদ

পিরোজপুর জেলার ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার মধ্যে অন্যতম একটি মমিন মসজিদ। এই মসজিদের বিশেষত্ব হচ্ছে এটি সম্পূর্ণভাবে কাঠ দিয়ে নির্মিত একটি মসজিদ। দৃষ্টিনন্দন মুসলিম স্থাপত্যকলার এই মসজিদটি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র কাঠের তৈরি মসজিদ। এর পূর্বে ভারতের কাশ্মীরে এই ধরনের মসজিদ দেখতে পাওয়া গেলেও ১৮৮৫ সালের ভূমিকম্পে তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার সর্ব উত্তর দিকে বুড়িরচর গ্রামে অবস্থিত আকন বাড়ি। দুশো বছরের পুরানো এই ঐতিহ্যবাহী বড়ির সামনে রয়েছে শতবর্ষী মমিন মসজিদ। ইতিহাস থেকে জানা যায় মসজিদটি নির্মাণ করেন আকন বাড়ীর বাসিন্দা মমিন উদ্দিন আকন। বহুদূর হেঁটে নামাজ পড়তে যেতে হয় বিধায় তিনি বাড়ির সামনে এই মসজিদ নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯১৩ সালে ২১ জন কারিগর নিয়ে তিনি নিজ বাড়ির সম্মুখে মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন। কাজ সম্পন্ন হতে সময় লেগে যায় প্রায় ৭ বছর।

মমিন মসজিদ

মসজিদটির নির্মাণশৈলী এর অন্যতম আকর্ষণ। ইন্দো পারসিক আর ইউরোপীয় ধারার সাথে স্থপতির নিজস্বতা মিলেমিশে মসজিদটিকে করে তোলে আকর্ষণীয়। বর্তমানেও ভিন্ন ধারার এক অবয়ব নিয়ে শতবছর যাবত টিকে আছে মসজিদটি। মসজিদের নির্মাণে দুষ্প্রাপ্য লোহাকাঠ ও বার্মা সেগুন কাঠ ব্যবহার করা হয়। সাথে কাঠ খোঁদাই করে জুড়ে দেয়া হয় জ্যামিতিক এবং ফুল পাখি গাছ গাছালির নানা নকশা। মসজিদের প্রবেশদ্বারে এবং মেহরাবে দেখা যায় ক্যালিগ্রাফির ব্যবহার। পুরো মসজিদটি ১৬ হাত দৈর্ঘ্য, ১২ হাত প্রস্থ ও ১৫ হাত উচ্চতা বিশিষ্ট।

২০০৩ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা দিয়ে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে মসজিদটি সংস্কার করা হয়।

কিভাবে যাবেন:

পিরোজপুর জেলা শহর থেকে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, তারপর কার্যালয় হতে T&T রোড হয়ে তেলিখালী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে ১০ মিনিট গেলেই এই ঐতিহাসিক কাঠ/মমিন মসজিদ।

ছবি – ইন্টারনেট

তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন – মোঃ সাখাওয়াত হোসেন

Facebook Comments
কাঠের তৈরি মমিন মসজিদ, পিরোজপুর