;

সোনালি সৈকত

প্রাত্যহিক কর্মব্যস্ততায় প্রাণ যখন হাঁপিয়ে উঠে তখন দূরে কোথাও সমুদ্র বিলাস মন-প্রাণ শান্ত করে তোলে। তবে সময়ের অভাবে অনেকেই কক্সবাজার বা চট্টগ্রামের সমুদ্র সৈকতে যেতে পারেন না। সময়-সুযোগ, অর্থ সবকিছু মিলিয়ে আর যাওয়া হয়ে উঠে না। আর তাই তাদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটিতে কিছুটা কাছে কোথাও ঘুরে আসাই শ্রেয়। পরিবার-পরিজন অথবা বন্ধুদের নিয়ে চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন পাবনার সোনালি সৈকত থেকে।

পাবনার ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর উপজেলার মাঝে এই সোনালী সৈকতের অবস্থান। দেশের সবচেয়ে বড় জলাধার চলন বিলের মাঝেরই আরেকটি বিল। এই বিলটির নাম বড়বিলা। সেখানে এখন বর্ষার জল থৈ থৈ করছে। যতদূর চোখ যায় শুধুই জলরাশি। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে দু’পারে। দিগন্ত রেখায় অবারিত সবুজ গ্রাম। বিলের মাঝদিয়ে চলে গেছে ভেড়ামাড়া-পাবনার গয়েশপুর পাকা সড়ক। সেই সড়কের হাটগ্রাম নামক স্থানটিকে ‘সোনালি সৈকত’ নাম দেয়া হয়েছে। এক অপরূপ প্রাকৃতিক নিসর্গের অনুপম চারণক্ষেত্র এটি। এখানকার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। সড়কের দু’পারে ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার দৃশ্য দেখে মনে হবে যেন চলে এসেছেন কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতে।

সড়কে দুই পাশে রয়েছে সারি সারি রকমারি দোকানপাট। শুধু বিকালে নয়, পাবনা শহর থেকে সকাল থেকেই মানুষ ভিড় করে সোনালি সৈকতের নির্মল বাতাসের শ্বাস গ্রহণ করতে। ব্যয়বহুল কক্সবাজার আর কুয়াকাটার বিকল্প হিসেবে পাবনার মানুষ বেছে নিয়েছে এই সোনালি সৈকত। এখানে ডিঙি নৌকায় চড়ে উপভোগ করতে পারবেন অন্যরকম এক আনন্দ। থৈ- থৈ জলরাশি আর সবুজে মোড়ানো প্রাকৃতিক শোভায় নির্মল বিশুদ্ধ বায়ু আপনাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে অন্য ভুবনে।

সোনালি সৈকত

সৈকতে আসা বিশেষ ব্যক্তিদের বসবার জন্য কলাগাছের এক বিশাল ভেলা বানানো হয়েছে এখানে । এটি এতোটাই বিশাল যে, তাতে এক সাথে তিন হাজার মানুষ অনায়াসে বসতে পারবে চেয়ার পেতে। ভেলাটি তৈরি করতে চার হাজার ৬০০ কলা গাছ, প্রায় ২ হাজার বাঁশ, কয়েক হাজার ছোট-বড় পেরেক এবং প্রায় তিন মন দড়ি লেগেছে।
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে ছুটে আসে সমুদ্র সৈকতের সাধ মেটাতে। শেষ বিকেলে সৈকতে ভিড় বেড়ে যায়। শুধু পাবনা থেকেই নয় পার্শ্ববর্তী জেলা

সিরাজগঞ্জ, নাটোর থেকেও পর্যটকরা ছুটে আসে এই সৈকতে। এখানকার স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক শোভায় বিকেলটা তাদের দারুন আনন্দে কেটে যায়। আছড়ে পড়া ঢেউ আর নৌকায় চড়ে বিলের জলে ছলাৎ ছলাৎ শব্দে ভেসে বেড়ানো এক অপার আনন্দের মুহূর্ত সৃষ্টি করে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সকল জেলা ও শহর থেকে যমুনা সেতুর মাধ্যমে সড়কপথে সরাসরি পাবনা যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে যমুনা সেতু হয়ে পাবনা যেতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগবে। ঢাকা থেকে বাদল, শ্যামলী, দুলকি, মহানগর ইত্যাদি বাস পাবনায় যায়।
পাবনা শহর থেকে বাস অথবা সিএনজিতে ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর উপজেলা পৌঁছাতে পারবেন । এরপর ভেড়ামারা থেকে ১০ মিনিটের পথ পেরিয়ে হাটগ্রামে পৌঁছতে হবে। মাইক্রোবাস,সিএনজি অথবা অটোভ্যানে করে হাটগ্রাম যেতে পারবেন।

যেখানে থাকবেন:

পাবনা শহরে থাকার জন্য নানান মানের হোটেল রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হোটেল প্রবাসী ইন্টার ন্যাশনাল, হোটেল পার্ক, হোটেল শিলটন, ছায়ানীড় হোটেল, প্রাইম গেস্ট হাউস, মিড নাইট মুন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, স্বাগতম হোটেল এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি।


ছবি – ইন্টারনেট

তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন – রুবাইদা আক্তার

Facebook Comments
পাবনার সোনালি সৈকত : নিসর্গের অনুপম চারণক্ষেত্র