;
অস্ট্রেলিয়া - টুয়েলভ অ্যাপসটেলস
টুয়েলভ অ্যাপসটেলস

অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের মূল ভূখণ্ডটি তাসমানিয়া দ্বীপ ও অন্যান্য অসংখ্য ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত। অসাধারণ সব সৌন্দর্য আর বৈচিত্র্যে ভরপুর এই মহাদেশের প্রধান দেশটি হল অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেশী দেশ হচ্ছে নিউজিল্যান্ড, নিউগিনি ও ইন্দোনেশিয়া। এখানে এমন কিছু বিস্ময়কর স্থান আছে যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে এই দেশ থেকে আলাদা করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিস্ময় জাগানো কিছু জায়গা নিয়েই আজকের আয়োজন।

১। লর্ড হাও দ্বীপ

অস্ট্রেলিয়া - লর্ড হাও দ্বীপ

নির্জন, মনোমুগ্ধকর এবং আধা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দ্বীপ হল লর্ড হাও দ্বীপ। এটি বিশ্বের প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য অসাধারণ এক স্বর্গ স্বরূপ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাঝামাঝি অবস্থিত অর্ধচন্দ্রাকার ও আগ্নেয়গিরির অবশিষ্টাংশের এই দ্বীপটি মূলত তাসমানিয়া সাগরে অবস্থিত। এই দ্বীপের বেশির ভাগ স্থানই কার্যত অক্ষত বন, প্রচুর উদ্ভিদ ও প্রাণীজ সম্পদ নিয়ে গঠিত। ভূপ্রাকৃতিক অসাধারণ বৈচিত্র্য এই দ্বীপের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক। মহাসাগরীয় আগ্নেয়শীলার বৈচিত্র্য, দক্ষিণের প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক পাখির বাসা এবং এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এই দ্বীপটিকে পর্যটকদের জন্য করে তুলেছে অনন্য।

২। সিডনি

অস্ট্রেলিয়ার সবচাইতে জনপ্রিয় শহর হল সিডনি। শহরটি অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। এটি দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলসের রাজধানী এবং একটি আধুনিক শহর। এই অঞ্চলের প্রথম অধিবাসীরা হাজার হাজার বছর পূর্ব থেকেই এই উপকূলে বাস করতো। তবে ১৭৮০ সালে মূলত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পাঠানো হত এই উপকূলে। বর্তমানে ফেরীতে করে সমুদ্র ভ্রমণের জন্য দর্শনার্থীদের ঘোরানো হয় সিডনি হারবার ব্রিজ এবং আইকনিক সিডনি অপেরা হাউজে।

৩। ওলগাস

অস্ট্রেলিয়া - ওলগাস

অস্ট্রেলিয়ার আয়ারস পর্বতের পশ্চিম দিকে ওলগাস অবস্থিত। এটি ৩৬টি গঠনের পাথুরে এলাকা এবং পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ শুষ্ক স্থান। এটি আয়ারস পর্বত থেকে ১২০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত একটি সমতল মরুভূমি। দুঃসাহসিক কাজ করতে যারা ভালোবাসেন তারাই মূলত এই মরুভূমিতে বেশি ভ্রমণ করে থাকে।

৪। টুয়েলভ অ্যাপসটেলস

টুয়েলভ অ্যাপসটেলস হচ্ছে চুনা পাথরের স্তূপ যা ক্রমান্বয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে গঠিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ান উপকূলে অবস্থিত এই টুয়েলভ অ্যাপসটেলস। নাম টুয়েলভ অ্যাপসটেলস হলেও এখানে কিন্তু মোট ৯টি চূড়া ছিলো। তবে সাম্প্রতিক পতনের ফলে এখানে বর্তমানে ৮ টি চূড়া আছে। এদের ভিত্তি বছরে ২ সেন্টিমিটার করে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাবার দরুন এটি ধীরে ধীরে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

৪। কাকাডু

কাকডু একটি সুন্দর পার্ক যা অস্ট্রেলিয়ার উত্তর অংশে অবস্থিত। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন দ্বীপের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এটি। অসাধারণ সুন্দর ভূ-প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণী ও চমৎকার গাছপালা নিয়ে এটি গঠিত। জলপ্রপাতের সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসুদের এখানে আকৃষ্ট করে। পরিবেশগত বিভিন্ন গবেষণার জন্য এই স্থানটিতে বিজ্ঞানী ও বাস্তুবিদেরাই বেশি ভ্রমণে যান।

৫। গ্রেট বেরিয়ার রিফ

অস্ট্রেলিয়া - গ্রেট বেরিয়ার রিফ

অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় শহর কুইন্সল্যান্ডের কোরাল সাগরে পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অবস্থিত। এটি পৃথিবীর অন্যতম বড় প্রবাল প্রাচীর। যা ২,৯০০টির বেশি প্রবাল প্রাচীর এবং শত শত দ্বীপ নিয়ে গঠিত। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ জীবন্ত প্রাণী একত্র হয়ে বিশাল প্রবাল প্রাচীর গঠিত হয়েছে যা পৃথিবীর সবচাইতে বিচিত্র বাস্তুতন্ত্রের একটি এবং অস্ট্রেলিয়ার দর্শনীয় স্থানগুলোর অন্যতম।

কন্ট্রিবিউটর – মীর মাইনুল ইসলাম

Facebook Comments
অস্ট্রেলিয়ার বিস্ময় জাগানো কিছু জায়গা